পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারসহ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে বেড়েছে সাতকরার চাহিদা। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই সুগন্ধি ফলটি গরুর মাংস রান্নার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে পরিচিত। ফলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে এবং সঙ্গে বাড়ছে দামও।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঝুড়িভর্তি সাতকরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ছোট আকারের সাতকরা প্রতি হালি ১১০ থেকে ১৪০ টাকায়, মাঝারি আকারের সাতকরা ১৩০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং বড় আকারের সাতকরা ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আকার ও মানভেদে প্রতি পিস সাতকরা ৭০ থেকে ১৫০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল বারিক জানান, সারাবছর সাতকরা বিক্রি হলেও কোরবানির ঈদের সময় চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সাতকরা ব্যবসায়ী তাহসিন হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে গত কয়েক দিনে বিপুল পরিমাণ সাতকরা ও জারা লেবু বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
ক্রেতা রায়হানুল হক বলেন, সারা বছরই তাদের খাদ্যতালিকায় সাতকরা থাকে। তবে ঈদের সময় গরুর মাংস রান্নার জন্য অতিরিক্ত সাতকরা প্রয়োজন হয়। তিনি জানান, এ বছর দাম কিছুটা বেশি হলেও দর কষাকষি করে সাতকরা কিনেছেন।
গৃহিণী ঐশি জারিন বলেন, সাতকরা ছাড়া কোরবানির মাংসের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। মাংসের সঙ্গে সাতকরা রান্না করলে এক ধরনের অনন্য ঘ্রাণ তৈরি হয়। সাতকরার খোসা শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং তা দিয়ে আচারও তৈরি করা সম্ভব।
মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগরের প্রায় প্রতিটি বড় বাজারে সাতকরা বিক্রি হয়। তবে সিলেট নগরের বন্দরবাজারকে সাতকরার সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা বাজার হিসেবে ধরা হয়। সেখানে প্রতিদিন শতাধিক ব্যবসায়ী সাতকরা বিক্রি করেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। তবে ঈদের পর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে সাতকরার চাহিদা বাড়লেও তুলনামূলক উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ফল।