প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৭

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সময়মতো চিকিৎসা ও এন্টিভেনাম প্রয়োগের মাধ্যমে বিষাক্ত সাপে কাটা এক নারীকে সুস্থ করে তোলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটাপুর গ্রামের মৃত তফিজ উদ্দিনের স্ত্রী জেবুন্নেছা খাতুন নিজ বাড়িতে কাজ করার সময় বিষাক্ত সাপের কামড়ের শিকার হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, হাতপাখা তৈরির জন্য ঘরে রাখা একটি বস্তা থেকে পুরোনো কাপড় বের করতে গিয়ে বস্তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি সাপের বাচ্চা জেবুন্নেছার হাতে কামড় দেয়। এরপরই তার হাতে তীব্র ব্যথা শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে দ্রুত এন্টিভেনাম দেওয়া হয় এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনাম মজুত থাকায় দ্রুত তা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় রোগী বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জেবুন্নেছা খাতুনের শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে কিংবা বাইরে জমে থাকা কাপড়, বস্তা বা ঝোপঝাড়ে হাত দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। রাতে চলাফেরার সময়ও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলেন, সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
৯ জুলাই, ২০২৬।