প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৩০

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আলোচিত সানজিদা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার পাঁচ মাস ২০ দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ গভীর রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ছোট মহেশপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় সানজিদার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সানজিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ওয়াহিদুল হক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিরামপুর উপজেলার ক্যাটরা গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোর্শেদ (২৫)-কে শনাক্ত করা হয়। তবে তিনি এরই মধ্যে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সানজিদা হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা জানান, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত সানজিদার বাড়ির রান্নাঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো বটি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর মামলার অগ্রগতিতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।