প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ২০:২১

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে একটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১২ জেলে জীবিত উদ্ধার হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা উত্তাল সাগরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসা জেলেদের ঘটনায় উপকূলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন গভীর সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মহিপুর থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাওয়া দুলাল মাঝির ট্রলারটি ফেরার পথে আকস্মিক ঝড়ের মুখে পড়ে ডুবে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই সাগরে প্রবল দমকা হাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে জেলেরা সাগরে ছিটকে পড়েন।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় কালাম (৫৫) ও শহীদ (৫৭) কেবিনের ভেতরে থাকায় তারা আর বের হতে পারেননি। অন্য ১২ জেলে প্রাণ বাঁচাতে উত্তাল সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা সাগরের বুকে ভাসতে থাকার পর একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেদের নজরে পড়েন তারা। পরে উদ্ধারকারী ট্রলারটি এগিয়ে গিয়ে দুলাল মাঝিসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে।

উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে রয়েছেন দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল ও শামীমসহ মোট ১২ জন। তাদের অধিকাংশের বাড়ি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলায়। তবে নিখোঁজ কালাম ও শহীদের কোনো সন্ধান এখনও মেলেনি।
নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা এবং কোস্টগার্ড তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় শোক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।