প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩২

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চালানো অভিযানে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে একটি চক্র নাফ নদী দিয়ে অস্ত্র এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ স্টেশনের সদস্যরা নাফ নদী এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করেন।
অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীতে একটি সন্দেহজনক কাঠের বোটের গতিবিধি কোস্ট গার্ড সদস্যদের নজরে আসে। বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও সেটি নির্দেশনা অমান্য করে দ্রুত নাইট্যংপাড়া প্যারাবনের দিকে চলে যায়। পরে বোটটি সেখানে রেখে সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়।
এরপর কোস্ট গার্ড সদস্যরা পরিত্যক্ত বোটটিতে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় মাছ ধরার জালের মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি এসভিডি ড্রাগনভ রাইফেল ও একটি ৯ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল। দুটি অস্ত্রের সঙ্গেই ম্যাগাজিন ছিল। এছাড়া ২২৯ রাউন্ড রাইফেলের তাজা গুলি, দুটি পিস্তলের তাজা গুলি এবং একটি ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে আরও দুটি এমএ-১ রাইফেলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্তপথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়ে থাকতে পারে। তবে এগুলোর প্রকৃত গন্তব্য ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজনরা বোট রেখে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্রের চোরাচালান এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাফ নদী এলাকায় কোস্ট গার্ডের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।