প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩০

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)–এর ধারাবাহিক যোগাযোগ ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দেশে ফেরত আনা হয়। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং ৬ জন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক।
বুধবার দুপুরে নাফ নদীর শূন্যলাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল জেলেদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহযোগিতায় জেলেদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন এসব জেলে। পরে তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। আটক জেলেদের মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা ও কারাগারে রাখা হয়েছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মির হাতে মোট ৪৩৪ জন জেলে আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক। বিজিবির উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৩৪৮ জনকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফেরত আনা ৩৪৮ জনের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি এবং ১৯১ জন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক। তবে এখনো ৮৬ জন জেলে আরাকান আর্মির কাছে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি এবং ২১ জন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিক বলে জানিয়েছে বিজিবি।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ায় জেলেদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। স্বজনদের মধ্যে অনেকেই এতদিন তাদের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আরাকান আর্মির কাছে আটক থাকা অবশিষ্ট ৮৬ জন জেলেকেও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির কূটনৈতিক ও মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।