প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ২১:৪১

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর আবারও ফিরেছে পাথর আমদানির কার্যক্রম। বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে দুই দিনে ২৭টি পাথরবোঝাই ট্রাকে এক হাজার মেট্রিক টন পাথর দেশে প্রবেশ করেছে। এতে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভারত থেকে ২১টি পাথরবোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। এসব ট্রাকে মোট ৮৩৯ দশমিক ৯৮০ মেট্রিক টন পাথর দেশে আসে।
এর পরদিন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভারতের ওপারে অপেক্ষমাণ আরও ছয়টি পাথরবোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। ওই ছয়টি ট্রাকে ২৪০ মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দিনে ২৭টি ট্রাকে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন পাথর দেশে এসেছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ম্যাক্স ইনফ্রা ভারতের বিহারের পাকুর এলাকা থেকে এসব পাথর আমদানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা জানান, আমদানি করা পাথর দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন মহাসড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জুলাই পাথরবোঝাই ২১টি ট্রাকসহ ১২টি পণ্যের ৪৮টি ভারতীয় ট্রাকে মোট ১ হাজার ৫৫৪ দশমিক ২১ মেট্রিক টন পণ্য দেশে প্রবেশ করেছে। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে দুটি ট্রাকে ৭ হাজার ৬৬৫ কেজি পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
এদিকে ২৮ জুলাই পাথরবোঝাই ছয়টি ট্রাকসহ ১০টি পণ্যের ২৭টি ভারতীয় ট্রাকে ৮৯৪ দশমিক ১১৭ মেট্রিক টন পণ্য দেশে প্রবেশ করে। বিপরীতে চারটি পণ্যের ১৩টি ট্রাকে ৮১ হাজার ৩৯১ কেজি পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে।

বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল বলেন, একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত হিলিতে বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘদিন পর পাথর আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
তিনি বলেন, নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন পাথর আমদানি বন্ধ ছিল। তবে আবারও আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ীরা কাজ করছেন। দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বন্দরের শ্রমিকরা জানান, আমদানি কার্যক্রম কমে যাওয়ায় কয়েকশ শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। বর্তমানে অল্পসংখ্যক শ্রমিক বন্দরে কাজ করছেন। পাথরসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বন্দর ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও গতি পাবে।
উল্লেখ্য, ভারতে পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি, ওভারলোডিং বন্ধসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২০২২ সাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।