প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৫

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সন্তান কোলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে স্ত্রীর মর্যাদা ও সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে অনশন করছেন হ্যাপি আক্তার (২৭) নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পৌর বারেরা গ্রামের বদুরুদ্দি হাজী বাড়িতে গিয়ে তাকে অনশনরত অবস্থায় দেখা যায়।
হ্যাপি আক্তারের দাবি, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী এনামুলের সঙ্গে সৌদি আরবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা জেদ্দাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে বসবাস করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান হ্যাপি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেরার পরও এনামুল তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং খরচ দিতেন। তবে স্ত্রী হিসেবে তাকে স্বামীর বাড়িতে গ্রহণ করা হয়নি। সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের বৈবাহিক মর্যাদার দাবিতে বাধ্য হয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে এনামুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান।
হ্যাপি আরও অভিযোগ করেন, তাকে ও সন্তানকে সৌদি আরবে নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হলেও পরে আর বিষয়টির কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি দাবি করেন, এনামুল তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিচ্ছেন এবং হুমকিও দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের ও এনামুলের স্বজনদের ভাষ্য, এনামুলের দেশে আরও একটি সংসার রয়েছে। সেই সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে বলেও তারা জানান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সৌদি আরবে অবস্থানরত এনামুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এনামুলের ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন বলেন, তার ভাই দেশে নেই। হ্যাপি যদি এনামুলের স্ত্রী হয়ে থাকেন এবং শিশুটি তার সন্তান হয়, তাহলে ভাই দেশে ফেরার পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে। বর্তমানে পরিবার যে নারীকে এনামুলের স্ত্রী হিসেবে জানে, তিনি দুই সন্তান নিয়ে আলাদা বাসায় থাকেন বলেও জানান সাহাদাত।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান হলে ভালো হয়। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।