প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার c অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। অনুমোদিত ১৭টি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না। যারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে, তাদেরও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা।
জানা গেছে, সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৭১ সালে সরাইল অন্নদা সদর এলাকায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষানুরাগী রায় বাহাদুর অন্নদা প্রসাদ রায় নিজের নামানুসারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৮৬ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শারীরিক শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা, জীববিজ্ঞান, ভৌত বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষক থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যা অনেক কম। এর মধ্যে কেউ প্রশিক্ষণে এবং কেউ ছুটিতে থাকায় বাস্তবে নিয়মিত পাঠদানে আরও সংকট তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫৩১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র কয়েকজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে গিয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়েও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ১৭টি হলেও বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক নেই। পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। শিক্ষক সংকট দূর করার জন্য চেষ্টা করা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তবে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
সরাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।