প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩

টানা ভারী বর্ষণ ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরেই অবস্থান করছেন।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা আবু তালেব জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। একের পর এক বিশাল ঢেউ দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জেলেদের জীবিকায়। উত্তাল সাগরের কারণে তারা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। ফলে অনেক পরিবার আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দ্বীপের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহারের পরই পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু করা হবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানিতে অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে পণ্যের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দ্বীপের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বের হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।