
প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৯

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার জেলার নদ-নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলাজুড়ে অবিরাম বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ৩০ ঘণ্টায় জেলায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধলাই নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে এবং নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তাই নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আবহাওয়া ও পানি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।