প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ব্যাপক এই হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৩০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
হামলার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। রাতভর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তাইমুর তিকাচেঙ্কো জানান, দিনিপ্রো নদীর তীরবর্তী একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ভবনের আরও কয়েকজন বাসিন্দার কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় রুশ বাহিনী ৭৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি সামরিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। চলতি বছরে রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও ব্যাপক হামলা বলে দাবি করা হয়েছে।
বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, হামলায় ব্যবহৃত অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উচ্চতায় উড়ে আসে। ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি এবং কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। জরুরি সেবাকর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের হামলার তীব্রতাও বাড়ছে। সর্বশেষ এই হামলা ইউক্রেনের রাজধানীতে নতুন করে মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।