
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১৯:৫৪

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া ছড়াসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও ছড়া দখল, দূষণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশগত সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত দখল ও বর্জ্য ফেলার ফলে অনেক জলধারা তাদের স্বাভাবিক প্রবাহ হারানোর পথে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরের জালালিয়া রোড, কালিঘাট, রামনগর, মুসলিমবাগ ও গাংপার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়ার দুই পাড় দখল করে ভবন, দোকান এবং টিনশেড স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সরকারি খাসজমিতেও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় ছড়ার প্রস্থ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এছাড়া বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত ছড়ায় ফেলা হচ্ছে। এতে পানিদূষণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্য উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে রাতের অন্ধকারে ও ভোরবেলায় ভানুগাছ রোড, জালালিয়া, কালিঘাট ও রামনগর এলাকার বিভিন্ন অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমে নদী ও ছড়ার তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছড়া দখল ও ভরাটের কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে আশিদ্রোন, উত্তর ভাড়াউড়া, রামনগর, গাজিপুর ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসন যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে ভানুগাছ রোড, জালালিয়া রোড দক্ষিণ ও কালিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়গুলো পরিদর্শন করা হয়।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ভূমি অফিসের মাধ্যমে ছড়ার সীমানা নির্ধারণ করে সব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছড়া ও সরকারি জমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং জলাশয়ে বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।