প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একমাত্র জীবিত সদস্য আমির উদ্দিন অয়নের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন তথ্য পেয়েছে ইতালীয় পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরে প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণ পর খাটের নিচে ছোট বোনের মরদেহ দেখতে পান আমির। পুরো পরিবার হত্যার শিকার হয়েছে বুঝে ওঠার আগেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা হামলাকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়।
প্রাণ বাঁচাতে হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন আমির। পরে ভবনের সামনে থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে আমির জানান, হামলাকারী তার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছে। তার এই জবানবন্দির পর তদন্তকারীরা প্রধান সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারের অভিযান আরও জোরদার করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে বাসার ভেতরের রক্তের দাগ ও অন্যান্য আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করে। এরপর নিহতদের মরদেহ ঘরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রেখে আমিরের ফেরার অপেক্ষায় ছিল, যাতে তাকেও হত্যা করা যায়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, নিহত পরিবারের প্রধান কামাল উদ্দিনের সঙ্গে অভিযুক্তের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে পরিবার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন কামাল উদ্দিন। এছাড়া ঘটনার কয়েক দিন আগেও আমিরের সঙ্গে অভিযুক্তের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রবাসী মহলে অভিযুক্ত ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ইতালীয় পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোমের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।