
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের সেরা দিন। এই দিনটি শুধু একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিনই নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অনন্য সুযোগ। পবিত্র কোরআনে জুমার নামেই একটি সূরা রয়েছে, যা এই দিনের গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে। একজন মুমিনের উচিত জুমার দিনটিকে যথাযথ মর্যাদা ও আমলের মাধ্যমে অতিবাহিত করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি উত্তমভাবে অজু করে জুমার নামাজে আসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত থাকে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" (সহিহ মুসলিম)। এই হাদিস আমাদের জানিয়ে দেয়, জুমা কেবল নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিষ্টাচার ও আন্তরিকতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।" (সুনানে আবু দাউদ)। দরুদ পাঠ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা আরও দৃঢ় করে।
এই দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। যদিও সেই সময়টি নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, অধিকাংশ আলেমের মতে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। তাই পার্থিব ও পরকালের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।

জুমার দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াতেরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। তাই এই দিনের বরকত অর্জনে কোরআন তিলাওয়াতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই জুমাকে শুধু ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক রুটিনের অংশ হিসেবে দেখেন। অথচ প্রকৃত মুমিনের কাছে এটি আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসার এক মূল্যবান সুযোগ। পরিবার-পরিজনকেও জুমার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
জুমার দিন আমাদের শেখায়, দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর স্মরণই মানুষের প্রকৃত সফলতার পথ। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত কাজের চেয়ে আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়াই একজন ঈমানদারের পরিচয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার আজান হলে কেনাবেচা ছেড়ে তাঁর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আসুন, আজকের এই পবিত্র জুমায় আমরা সবাই আন্তরিক তওবা করি, সময়মতো জুমার নামাজ আদায় করি, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনি, বেশি বেশি দরুদ ও দোয়া করি এবং কোরআনের আলোয় নিজেদের জীবন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার প্রকৃত ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।