
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার বলে বিবেচিত সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তার পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের আওতায় তারা পদোন্নতি, বকেয়া আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পূর্বে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা এ সুবিধার আওতায় আসছেন। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত, চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ অবসর, অকালীন অবসর কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সশস্ত্র বাহিনীতে বৈষম্য ও রাজনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের আবেদন যাচাই করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তিন বাহিনীর সদর দপ্তর পৃথকভাবে পর্যালোচনা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি আবেদন, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সুপারিশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকারের অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত ও অকালীন অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদেরও তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অতীতে অন্যায় বা বৈষম্যের শিকার বলে বিবেচিত কর্মকর্তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার পুনর্বহাল করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এখন ধাপে ধাপে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।