
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণ, রোগীর শয্যার পাশে বিড়ালের বিষ্ঠা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবার যথাযথভাবে সরবরাহ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ফার্মেসির সামনে একাধিক কুকুর ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কের মধ্যে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে আসা স্বজনরা বলছেন, কুকুরের কারণে হাসপাতালে প্রবেশ করতেই ভয় কাজ করছে।
অন্তর্বিভাগের বারান্দায় রোগীদের জন্য রাখা একটি শয্যার পাশে বিড়ালের বিষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ডেলিভারি বিভাগের সিঁড়িতেও কুকুরের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এমন পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, বহির্বিভাগের পাশের ওয়াশরুমে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই। এমনকি প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রীও অনুপস্থিত। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
রোগীদের খাবার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে না। নির্ধারিত সকালের নাশতায় কলা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক রোগী তা পাননি। পাশাপাশি নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগও ওঠে।

জানা গেছে, একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আকাশ নুনিয়া জানান, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কলার মানগত সমস্যার কারণে তা পরিবর্তন করে পরে সরবরাহ করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।