
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ২০:৩৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে ফেরিঘাট সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ১, ২ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ায় নদীপাড়ের বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
রবিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিভিন্ন অংশে নদীর পানি দ্রুত তীর গ্রাস করছে। কোথাও কোথাও মাটি ধসে সরাসরি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এতে ঘাট এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নদীঘেঁষা বসতিগুলোতে বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না, কখন ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায় সেই আশঙ্কায়। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পরিবারগুলো বেশি উদ্বেগে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিন মণ্ডল জানান, নদীর খুব কাছেই তাদের বসতঘর হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত নদীশাসনের ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
আরেক বাসিন্দা আকলিমা বেগম বলেন, বারবার ভাঙনে তারা ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এখন আর কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা নেই। সরকারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

রোজিনা আক্তার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। স্থায়ী সমাধান না হলে অনেক পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন জানান, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।