প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ২০:১০

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট তেল রপ্তানির বড় অংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে খার্গ দ্বীপে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
খার্গ দ্বীপকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌ-মাইন এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকাগুলোর একটি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ইতোমধ্যে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই জলপথ ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়ামূলক অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।