প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১৯:২৪

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক, কাস্টমস শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্কে বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্যের দামের ওপর।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানো হয়েছে, ফলে সেগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কিছু খাতে কর ও ভ্যাট কমানোর কারণে ভোক্তারা মূল্যছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাজারে বাইসাইকেলের দাম বাড়তে পারে।
তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে করভার আরও বাড়ানো হয়েছে। নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্যও নতুনভাবে নির্ধারণ করায় এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলচালিত আমদানিকৃত গাড়ির করভার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া ট্রান্সফরমার, ওয়াশিং মেশিন, রড, বিদেশি খাদ্যপণ্য, কাজুবাদাম, পাঙাশ মাছের ফিলেট, মধু, সুপারি, লিপ লাইনার, লিপ জেল এবং বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্যও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছু স্বস্তির বার্তা রয়েছে। দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম এবং ওষুধের কাঁচামালের ওপর করছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন, চার্জিং স্টেশন, সৌর প্যানেল, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, শিশুখাদ্যের কাঁচামাল, মসলা, খেজুর, কৃষি ও মৎস্য খাতের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং আমদানিকৃত কিছু খাদ্যপণ্যের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে এর বাস্তব প্রভাব ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।