
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১৬:৩৪

কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক কর ও ভ্যাট সুবিধার ঘোষণা এসেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে এসব খাতের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ভ্যাট প্রত্যাহার ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও উৎসাহ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিভিন্ন সেবা এবং অফিস বা অন্যান্য স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে উদ্ভাবনভিত্তিক ব্যবসার ব্যয় কমবে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, স্টার্টআপ খাতের জন্য দেওয়া এসব ভ্যাট অব্যাহতি ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি এ সুবিধা বিনিয়োগ আকর্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তির খবর। তাদের প্রদত্ত সেবার ওপর বর্তমানে কার্যকর ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে প্রস্তাবিত এ বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া বিদেশি ঋণ পরিশোধে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, বিদেশি অনুদান থেকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ এবং ব্যাংক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা এবং ব্যাংক হিসাবে চার লাখ টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।