পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলার প্রায় সবগুলো আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ইতোমধ্যে আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন পর্যটকরা। তুলনামূলক ভালো হোটেলগুলোতে কোনও কক্ষ খালি নেই। আগামী কয়েকদিনে এখানে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা তাদের।
জেলা আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। এরমধ্যে মধ্যে দুটি পাঁচতারকা এবং পাঁচটি রয়েছে ফোরস্টার মানের। এগুলোর অধিকাংশই শ্রীমঙ্গলে। পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ হলো চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। ফলে এই দুই উপজেলাসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে পাঁচ তারকা মানের রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক রিসোর্ট, ইকো কটেজ, হোটেল, মোটেল।
পর্যটকদের জন্য শ্রীমঙ্গলে আছে প্রায় ১০০টি হোটেল রিসোর্ট। এসব রিসোর্টের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গতকাল বলছেন, ইতোমধ্যে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত হোটেল-রিসোর্টগুলোর প্রায় শতভাগআগাম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দিন থেকে সব হোটেল, রিসোর্ট হাউসফুল পর্যটক থাকবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল আবাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরখানেক ধরে ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দেশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে ঘুরে দেখা যেতে পারে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনু ব্যারেজ-মাতারকাপন সুইস গেট, মনু নদী তীরবর্তী শহরের শান্তিভাগ ওয়াকওয়ে, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হজরত শাহ মোস্তফা রহ. এর মাজার, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ , হামহাম জলপ্রপাত, লাসুবন, শমসেরনগর গল্ফ মাঠ, ক্যামেলিয়া লেক, আদমপুর বনবিট, খাসিয়া পুঞ্জি, পদ্মছড়া চা বাগান লেক, বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট, আগর বাগান, শ্রীমঙ্গলের মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, হাইল হাওর, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূম৭১, দার্জিলিং টিলা, টি মিউজিয়াম, ভাড়াউড়া চা বাগান লেক, সাত কালার নীল কণ্ঠ টি কেবিন, সীতেশ বাবুর মিনি চিড়িয়াখানা,হরিণ ছড়া গল্ফ মাঠ, লাল টিলা, গরম টিলা, মণিপুরী পল্লী, রাজনগরের কমলা রানির দীঘি, বরথল চা বাগান লেক, কুলাউড়ার পৃথিমপাশা নবাববাড়ি, রবিরবাজার জামে মসজিদ, জুড়ীর কাশ্মির টিলা, লাঠি টিলাসহ জেলার বিভিন্ন চা বাগানের নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থান।