প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১১:১১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে জিএস পদে প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিট দায়ের হয়েছে। ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের মনোনীত এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ উত্থাপনের ফলে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রোববার বিচারপতি তাহসিন আলী ও হাবিবুল গণির হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিটের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। অপরদিকে এস এম ফরহাদের পক্ষে শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদ আলম। তিনি দাবি করেছেন, ফরহাদ পূর্বে ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁর ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত প্যানেলে প্রার্থী হওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।
আবেদনে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী দুই ভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন তা স্পষ্ট নয়। এটি নির্বাচনের শুদ্ধতা ও প্রার্থীর যোগ্যতার প্রশ্নে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন এটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক যাত্রার অংশ, আবার কেউ একে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। ফলে এই রিট নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ডাকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন পর আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এমন আইনি বিতর্ক নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে ফরহাদের প্রার্থিতা বহাল থাকবে কি না।
আইনজীবী মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই মামলার রায় শুধু ডাকসু নির্বাচনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠনের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা ও ন্যায্যতার মানদণ্ড নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।
এদিকে ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলছে, প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের পরেই জানা যাবে। তবে শিক্ষার্থীরা চায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যাতে বিতর্কের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়।