প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫০

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দুই দেশের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য দেশে স্থানান্তর করা হতে পারে।
এ ছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চীনকে নিশ্চয়তাদাতা পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হলে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে স্বাধীন পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শুক্রবার সকালে সেখানে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে আলোচনার পথ তৈরির প্রস্তাবসংবলিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কাতারের দূতেরা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আলোচনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চলছে এবং ইরান কথা বলতে চায়।
ইরানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতেও সমস্যায় পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।