
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১

ইসলামে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়ার পরই পবিত্র কোরআনে পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ এসেছে। এ কারণে তাঁদের অধিকার রক্ষা করা প্রত্যেক সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর আলোচনায় পিতা-মাতার মর্যাদা ও তাঁদের প্রতি সন্তানের কর্তব্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁদের সেবা-যত্নের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ সুগম হয়।
পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁদের কেউ বা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হলে বিরক্তিসূচক শব্দ উচ্চারণ না করা, ধমক না দেওয়া এবং সম্মানজনক ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াতেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইসলামী ব্যাখ্যায় এই নির্দেশ পিতা-মাতার অবদান স্বীকার করা এবং তাঁদের অধিকার যথাযথভাবে পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
হাদিসেও পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সময়মতো নামাজ আদায়ের পর পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।

ইসলামে পিতা-মাতার বৈধ ও ন্যায়সংগত নির্দেশ পালন করা সন্তানের কর্তব্য। তবে তাঁরা কোনো পাপ বা আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজে নির্দেশ দিলে তা পালন করা যাবে না। এ ক্ষেত্রেও তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
বিশেষ করে পিতা-মাতার বার্ধক্যে তাঁদের সেবা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের অবহেলা করা কিংবা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসলামী শিক্ষায় পিতা-মাতার সেবাকে জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাই শুধু আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়, দৈনন্দিন আচরণেও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।