
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। জনগণের এই রায় বিএনপি সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির সঙ্গে কোনো ধরনের গাদ্দারি মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে ৩৩টি দল অঙ্গীকার করেছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সবাই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। এখন ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ার পর তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের টালবাহানা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফা নিয়ে জনগণকে যে দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তার অবসান ঘটবে। সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি উপেক্ষা করা হলে জনগণ কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়, তা ভালোভাবেই জানে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে গুলি, বন্দুক কিংবা কামান দিয়ে তাদের দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। মানুষ মুক্তির পথ চিনে নিয়েছে। নব্য ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে প্রয়োজনে জীবন ও রক্ত দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। ১২০০ টাকার গ্যাসের জন্য এখন ২৫০০ টাকা এবং ২০০০ টাকার বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, ছাত্রদল-যুবদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানোর আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতারা। ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের মোল্লাহাট সেতু থেকে রূপসার কুদির বটতলা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। নওয়াপাড়া ও কাটাখালি এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে কাটাখালির পথসভা একপর্যায়ে জনসমাবেশে রূপ নেয়। নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে এই লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় জোট। কাটাখালির কর্মসূচি শেষে গাড়িবহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে।