প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৪

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তার বাবার রক্তের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং এটি কেবল পারিবারিক বিষয় নয়, বরং সমগ্র ইরানি জনগণের প্রত্যাশা।
বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশিত এই বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না। জাতির সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন।
মোজতবা খামেনি তার বক্তব্যে জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতির জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই গণসমাগম জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম ও জনগণের অটুট মনোবলের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের জনগণ সংকটের মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থেকেছে এবং দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হামলার জবাব দেওয়ার বিষয়ে তাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণের এই সংহতি ভবিষ্যতের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
এদিকে খামেনির বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
১১ জুলাই, ২০২৬।