
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৯

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মৌলভীবাজার জেলার চারটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনগর উপজেলা। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় কোমর থেকে গলাসমান পানি থাকায় মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও গবাদিপশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চারটি উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য বিভিন্ন স্থানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।
তবে ত্রাণ বরাদ্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনগরের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বন্যায় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বেশি ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজনগর পর্যাপ্ত সহায়তা পায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যাকে ঘিরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার রাজনগরে বন্যার পানিতে ভাসমান অবস্থায় দুইটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজন বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত হলেও অপর এক নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে শনিবার কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে মাসুক মিয়া নামে এক কৃষক নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
বন্যার কারণে জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সেবা পৌঁছাতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
১১ জুলাই, ২০২৬।