প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৫

পিরোজপুরের কাউখালী ও নেছারাবাদ উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আমরাজুড়ি সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নির্মাণস্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল কাউখালীর আমরাজুড়ি ফেরিঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর মোহনা এবং গাবখান চ্যানেল এলাকা ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল নদীর নাব্যতা, ভৌগোলিক অবস্থান, সম্ভাব্য সংযোগ সড়ক নির্মাণের সুযোগ এবং সেতু বাস্তবায়নের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরাও প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও কারিগরি দিকগুলো সরেজমিনে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরাজুড়ি সেতু এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সেতুটি নির্মিত হলে কাউখালী ও নেছারাবাদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, আমরাজুড়ি ফেরিঘাটে বছরের পর বছর মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
পরিদর্শনের সময় পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কাউখালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এবাদ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাফিউল আজম দুলালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।