
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪২

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে পাঁচটি জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতেও বন্যা ও পাহাড়ধসে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনও অনেক এলাকা পানিবন্দি থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি উপজেলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। শতাধিক ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্গতদের জন্য শত শত আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হলেও অনেক পরিবার এখনও নিজ বাড়িতে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
সরকার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য চাল, নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। বিস্তীর্ণ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যের অভাব এবং শিশুখাদ্য ও ওষুধের সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে।

এদিকে কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতেও বন্যা ও পাহাড়ধসের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাজেকে আটকে পড়া শত শত পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলাকে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্যার প্রভাব চট্টগ্রামের বাইরে হবিগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।