প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা ৪০ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানী কোয়েটাসহ একাধিক জেলায় পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি বেলুচিস্তানের কোয়েটা, গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
হামলার পরদিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, হামলাকারীরা সাধারণ বেসামরিক পোশাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে জনসমাগমে মিশে যায়। এতে করে হামলার আগে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ একটি বিবৃতি দেয়। সংগঠনটি জানায়, তারা ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’ নামের একটি পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।

বিএলএ-এর প্রকাশিত বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে আইইডি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, তাদের অভিযানে ৮৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত এবং ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হামলার দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে বিএলএ-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
বেলুচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও এটি অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি। বিপুল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে প্রদেশটিতে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই বেলুচিস্তানে বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী আন্দোলন সক্রিয় রয়েছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।