
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি এসি বাসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার সময় বাসটিতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বাসের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের ভেতরে প্রথমে পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলেও চালক বা সহকারী তাদের সতর্ক করেননি। পরে আগুন দৃশ্যমান হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে চালক ও সহকারী বাস থেকে নেমে চলে যান বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এগিয়ে আসেন। তারা বাসের জানালার কাচ ভেঙে একে একে যাত্রীদের বাইরে বের করে আনেন। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বাসের সবাই নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
যাত্রী আবদুল আলীম জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে বাসটি ছাড়ার পর ভেতরে পোড়া গন্ধ পান তারা। কিছুক্ষণ পর আগুন দেখতে পান। চালক বা সহকারী কোনো সতর্কবার্তা না দেওয়ায় যাত্রীরা নিজেরাই পরিস্থিতি বুঝে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের মালামালও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে একই পরিবহনের আরেকটি বাস এনে যাত্রীদের ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আরও তদন্তের প্রয়োজন।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, সৌভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সময়মতো যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে আগুন লাগার পর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক ও সহকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।