প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৮

জ্বালানি সংকটে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। এ অঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আরও কয়েকটি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার, রাউজান-১ ও রাউজান-২, টেকনাফ সোলার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে আনলিমা এনার্জি, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১, জুলদা-২ ও জুডিয়াকসহ কয়েকটি কেন্দ্রে সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে কাগজে-কলমে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ সমান দেখানো হলেও বাস্তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।
নগরীর পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাসাবাড়িতে পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতিও স্বস্তিদায়ক নয়। বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষি, ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্প কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বায়েজিদ বোস্তামীসহ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গ্যাসের অভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন। কারখানাটি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
সিইউএফএল সর্বশেষ গত ৩ মার্চ উৎপাদনে ছিল। এরপর গ্যাস সংকটে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় বন্ধ ও আংশিক উৎপাদনে থাকা কেন্দ্রগুলো দ্রুত সচল করার পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।