
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪

ইসলামে পিতামাতার মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশের পরই বহু ক্ষেত্রে পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তাই তাদের অবহেলা, অসম্মান কিংবা কষ্ট দেওয়া একজন মুসলিমের জন্য গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, পিতামাতার একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের প্রতি ‘উফ’ শব্দটিও বলা যাবে না এবং তাদের ধমক দেওয়া যাবে না। বরং সম্মান ও নম্রতার সঙ্গে কথা বলতে হবে। সূরা বনী ইসরাঈলের ২৩ নম্বর আয়াতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পিতামাতার প্রতি সন্তানের আচরণের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
হাদিসেও পিতামাতার অবাধ্যতার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পিতামাতার অবাধ্যতাকে বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইসলামী শিক্ষায় পিতামাতার সন্তুষ্টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তারা বার্ধক্যে পৌঁছালে তাদের সেবা, দেখাশোনা ও প্রয়োজন পূরণে সন্তানের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
পিতামাতার অবাধ্যতার দুনিয়াবি প্রভাবও মানুষের জীবনে নানা সংকট তৈরি করতে পারে। তাদের কষ্ট দিয়ে অর্জিত সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা সাফল্য সবসময় মানুষের মনে শান্তি এনে দেয় না। পরিবারের মধ্যে অশান্তি, আত্মীয়স্বজনের বিরূপতা এবং সামাজিক সম্মান হারানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সন্তানরা পরিবারের বড়দের কাছ থেকেই আচরণ ও মূল্যবোধ শেখে। তাই নিজের পিতামাতার প্রতি সম্মান ও যত্নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সেই মূল্যবোধ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।

আখিরাতের দিক থেকেও পিতামাতার অবাধ্যতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। হাদিসে এ ধরনের ব্যক্তির জন্য কঠিন পরিণতির সতর্কবার্তা রয়েছে। তাই শুধু সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও পিতামাতার হক আদায় করা প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য।
পিতামাতার সেবা করার মধ্যে রয়েছে তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থতা ও বার্ধক্যে যত্ন নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের প্রয়োজন পূরণ করা। তাদের জন্য নিয়মিত দোয়া করাও সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোরআনে শেখানো হয়েছে, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’
পিতামাতার জীবদ্দশায় তাদের মূল্য অনুধাবন করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা উচিত। তাদের সঙ্গে মতের অমিল হলেও অসম্মানজনক আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি। পিতামাতার হক আদায় শুধু পারিবারিক কর্তব্য নয়, এটি একজন মুমিনের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও তাদের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন।