প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১

সিলেট নগরের রায়নগরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, প্রেম বা শারীরিক সম্পর্কের কারণে নয়, বরং চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর তিনজনকে হত্যা করেন গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাবুল। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে চাপের মধ্যে ছিলেন বাবুল। এ কারণে তিনি ওই বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। সেখানে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম তাকে দেখে ফেললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহমিনা পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন বাবুল। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গৃহকর্তা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তিনজনকে হত্যার পর নিজের শরীরে লেগে থাকা রক্ত পরিষ্কার করতে বাথরুমে যান বাবুল। এরপর বাসার একটি কক্ষে টাকা খুঁজতে গিয়ে ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট পান। পরে সেগুলো গুনে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, বাসা থেকে আরও মালামাল নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও একটি মোবাইল ফোন বেজে ওঠা এবং মূল দরজার পাশে লোকজনের কথাবার্তা শুনে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান বাবুল। পরে বারান্দা দিয়ে নিচে নেমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বাবুলকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ আগস্ট সকালে নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার নিকুঞ্জ ভিলার ১১১ নম্বর বাসায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (২৫)। মামলাটির তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।