প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনায় একটি বন্য হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামার সময় পা পিছলে প্রায় ১০০ ফুট নিচে পড়ে গেলে হাতিটি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরের দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত হাতিটিকে পাহাড়ের নিচে পড়ে থাকতে দেখে বন বিভাগকে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম ও অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড় অতিক্রম করার সময় হাতিটি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে তার একটি পা এবং বুকে গুরুতর আঘাত লাগে। আঘাতের কারণে কিছু সময় হাতিটি স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়াও করতে পারেনি।
খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের কর্মকর্তারা একটি বিশেষ উদ্ধার দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রাণিচিকিৎসকও। আহত হাতিটির অবস্থা পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এত উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ায় হাতিটির শরীরে উল্লেখযোগ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিচর্যার মাধ্যমে হাতিটিকে সুস্থ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ বন বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, চিকিৎসার পাশাপাশি হাতিটির চলাফেরা, খাদ্য গ্রহণ এবং শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিবৃষ্টির সময় পাহাড়ি এলাকায় ভূমি নরম হয়ে যাওয়ায় শুধু মানুষের নয়, বন্যপ্রাণীরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে হাতির চলাচলের পথগুলো পিচ্ছিল হয়ে পড়লে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
টেকনাফ বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ বলেন, আহত হাতিটিকে দ্রুত সুস্থ করে বনের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য বন বিভাগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।