প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৬

ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আটক এক যুবলীগ নেতার জামিনের পক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ জন নেতার হলফনামা দাখিলকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কারাগারে থাকা জাকির হোসেন শামীমের পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দাখিল করা হলফনামায় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বরং তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী এবং তাকে ভুলভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের প্রতিবেদনে জাকির হোসেন শামীমকে যুবলীগের নেতা এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আদালতে দাখিল করা হলফনামা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শামীমের জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক মো. মতিয়ার রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনকে আদালত ভর্ৎসনা করেন। শুনানিকালে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন জানান, জামিন শুনানির সময় হলফনামা দাখিলের বিষয়টি সত্য। ঘটনাটি আদালতপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৪৬ জনকে আসামি করা হলেও জাকির হোসেন শামীম এজাহারভুক্ত ছিলেন না। পরে তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।
হলফনামায় স্বাক্ষরকারী বিএনপি নেতারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কেউ শামীমকে ঘটনাস্থলে দেখেননি। সিসিটিভি ফুটেজেও তার উপস্থিতির প্রমাণ নেই। তাদের মতে, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য বা সাক্ষ্য না থাকায় তাকে নির্দোষ বিবেচনা করে হলফনামা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার বাদী ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুমন মণ্ডল বলেন, শামীম এজাহারভুক্ত আসামি নন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে এবং দলটির নেতাদের সঙ্গে তার একাধিক ছবি রয়েছে। যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সদস্য ছিলেন না।