মৌলভীবাজারর শ্রীমঙ্গল—চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল লেবু ও আনারস উৎপাদনের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। পাহাড়, বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানে ঘেরা এলাকাটিতে বিপুল পরিমাণ কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে পবিত্র রমজানের শুরুতেই লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
বাজার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলে শতাধিক লেবুর আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন এসব আড়ত থেকে কয়েক লাখ লেবু পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত রমজানের একদিন আগ থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে বড় লেবু হালি ২২০ টাকা, মাঝারি ১২০–১৫০ টাকা এবং ছোট ৬০–৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে হালি ৪০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ৬০ টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতিটি লেবু পাইকারিতে ১৮–৪৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
খুচরা বিক্রেতা শান্ত দাশ বলেন, আড়তেই লেবুর সংকট। পরিবহন, শ্রমিক ও বাজার খরচ যোগ করে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আরেক বিক্রেতা আলাল মিয়া জানান, দাম বাড়ায় ক্রেতারা আগের তুলনায় কম কিনছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগও কম নয়। বাজারে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে বোনের অস্ত্রোপচার হয়েছে, চিকিৎসক বেশি লেবু খাওয়াতে বলেছেন। কিন্তু এখন দাম এত বেশি যে কেনা সম্ভব হয়নি। শারমিন আক্তার বলেন, রমজানে লেবুর শরবত ছাড়া চলে না, কিন্তু বড় লেবুর হালি ২০০ টাকার বেশি হওয়ায় অনেক কষ্টে দুই হালি কিনেছি।
লেবুচাষিরা বলছেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন মারাত্মকভাবে কমেছে। বাগান মালিক অনিরুদ্ধ সেনগুপ্ত জানান, স্বাভাবিক ফলনের চার ভাগের এক ভাগও হয়নি। পানির অভাবে ফুল ঝরে গেছে, মোটর চালিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, সারের দামও বেড়েছে। শিপন মিয়া বলেন, ভরা মৌসুমে একটি গাছে ২৫০–৩০০ লেবু ধরলেও এখন অনেক গাছে ৩–৫টির বেশি নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১,২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। খরার কারণে ফলন কমেছে, তাই সেচ ও সার ব্যবস্থার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং অযৌক্তিক দাম না বাড়াতে বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে।