
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭

প্রতিদিনের রান্নার অপরিহার্য উপকরণ ভোজ্যতেলকে ঘিরে বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন অস্থিরতা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার জীবনে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটে ক্রেতাদের এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনে বাড়ছে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতল প্রায় উধাও। ক্রেতারা জানাচ্ছেন, আগের মতো সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, বরং দোকানিরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরবরাহ বন্ধ বা খুব সীমিত। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরছেন।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, একাধিক দোকানে ঘুরেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। কোনো কোনো দোকানে সীমিত পরিমাণে তেল থাকলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি চাওয়ায় তা কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
অন্যদিকে বোতলজাত তেল না পেয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন খোলা তেলের দিকে। কিন্তু সেখানে গিয়েও মিলছে না স্বস্তি। খোলা তেলের দামও নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি, ফলে ক্রেতারা দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছেন।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও সরবরাহ সংকটে আছেন। কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে বড় বোতলের ক্ষেত্রে সংকট বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিও বাড়ছে।

কিছু বিক্রেতার অভিযোগ, নির্দিষ্ট শর্তে বা অন্যান্য পণ্য একসঙ্গে অর্ডার দিলে তবেই সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে ছোট খুচরা দোকানিরা আরও বেশি সংকটে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাড়তি দামে তেল কিনে আবার বিক্রি করতে গিয়ে তাদের মুনাফাও কমে যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অসামঞ্জস্যের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিলার পর্যায়েও সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তব বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।