মৌলভীবাজারের চা বাগানাঞ্চলে খাসিয়া, গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, খাড়িয়া, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাও, কুর্মী, বুনারাজি, গঞ্জু, পাঙালসহ অন্তত ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলে, লেখে এবং পড়ে। বৈজ্ঞানিক ভাষা সমীক্ষায় খাড়িয়া ভাষাসহ বম, কোল, চাক, শো, খাসি, কোড়া, পাংখুয়া, সৌরা, কোডা, মুন্ডারি, মালতো, কন্দ, খুমি, রেংমিতচা, খিয়াং, লালেং বা পাত্র ও লুসাই ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একসময় চা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অসংখ্য খাড়িয়া শ্রমিকের মাতৃভাষা ছিল খাড়িয়া। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ভাষাটির ব্যবহার কমতে কমতে এখন প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমানে সাদ্রি-বাংলা, দেশোয়ালি ও খাড়িয়ার মিশ্রণে এক ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন অনেকেই, তবে প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা জানেন কেবল দুই বোন।
বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের উদ্যোক্তা পিওস নানোয়া জানান, ২০১৭ সালে বর্মাছড়া বাগানের উত্তরণ যুব সংঘের মাধ্যমে ভাষাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মাধ্যমে শিশুদের কিছু শিক্ষা দেওয়া হলেও উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৯৮.২৭ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তবে চাকমা, মারমা, তংচঙ্গ্যা, হাজং, মুরংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৪১টি শ্রমিক কলোনিতে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। ২০২০ সালের অনুসন্ধানে প্রায় হাজারখানেক খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ শনাক্ত হলেও ভাষাটি জানা কাউকে পাওয়া যায়নি, দুই বোন ছাড়া।