
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিএনপি শপথ না নিলে ১১ দলীয় জোটের কেউই শপথ নেবে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
মঙ্গলবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে বিএনপির অবস্থানের ওপর।
জামায়াত নেতার ভাষ্য, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে, তাহলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও কোনো ধরনের শপথে অংশ নেবেন না। তাদের মতে, সংস্কারবিহীন সংসদ কার্যকর ও অর্থবহ হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এ প্রক্রিয়া ছাড়া নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত না হলে শপথ গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, আপাতত এ বিষয়ে কোনো সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

তার মতে, বিষয়টি জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। তখনই শপথ গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শপথ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। এতে সংসদের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রশ্নে এখনো স্পষ্ট কোনো সমাধান আসেনি। জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।