প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫৩

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, জনগণের এই রায় বাস্তবায়নের চেয়ে এই মুহূর্তে বড় কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নেই। এ বিষয়ে সংসদ ব্যর্থ হলে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে ১১ দলীয় ঐক্যের ভূমিকা, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় সংকট এবং ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। জামায়াতে ইসলামী এ অবস্থার পরিবর্তন করে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের বিরোধিতা করা নয়। সরকারের জনকল্যাণমূলক ও ভালো উদ্যোগে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করাই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। এভাবেই ১১ দলীয় ঐক্য সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায়।
সভায় অংশ নেওয়া সম্পাদকদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত ও কার্যকর যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সম্পাদকরা জামায়াতের সংসদীয় ভূমিকা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন।
রাজপথের কর্মসূচি নিয়ে সম্পাদকদের পরামর্শের কথাও জানান তিনি। জনগণের দাবি আদায়ে আন্দোলন প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংস, অস্থিতিশীল বা অসহিষ্ণু পথে না যায়—এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সম্পাদকরা।
দীর্ঘ ছয় মাস পর জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে এমন উন্মুক্ত মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে এ ধরনের সংলাপ ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।