
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৭

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোন। একই কর্মসূচির আওতায় অসহায় এক ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পানছড়ি ব্যাটালিয়ন ও লোগাং জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এসব জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় মধ্যনগর নুরানী তালিমুল কোরআন মাদ্রাসায় চার বান্ডিল ঢেউটিন দেওয়া হয়। ওমরপুর তালিমুল কোরআন নুরানী মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চারটি ওয়ালটন জালি ফ্যান এবং একটি ১০০ ওয়াটের হামকো ব্যাটারি বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ফাতেমানগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী এবং মুসলিমপাড়া দারুস সুন্নাহ মডেল মাদ্রাসায় একটি আইপিএস মেশিন ও দুটি ১৩০ ওয়াটের হামকো ব্যাটারি দেওয়া হয়। এসব সামগ্রী শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দুপুর ১টার দিকে ফাতেমানগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় বল, ব্যাট, ক্যারাম ও দাবাসহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাদেক হোসেন, স্কুল কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সদস্য ফরহাদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওমরপুর তালিমুল নূরানী কোরআন মাদ্রাসায় ব্যাটারি, ফ্যান ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় একজন অসহায় ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসব উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।
পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) ও লোগাং জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, পিপিএম (সেবা) এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, পার্বত্য এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ বজায় রাখতে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও সহায়তার পরিধি বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।