
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৮

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যার মামলায় বাবা শরীফ আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১২ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলো।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২য় আদালত) মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ভানুবিল গ্রামে নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই দিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের শিশুকন্যা রুনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন তার বাবা শরীফ আলী।
হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন শরীফ আলী। পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিবেশী সালেক মিয়াকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার পর নিহত শিশুর মা নেকজান বিবি বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির বাবা শরীফ আলীকেই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

পরে শরীফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি তোফায়েল আহমদ বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছিল। স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করালেও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে এবং আসামি নিজেই আইনের আওতায় আসেন।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পর শিশুহত্যার ঘটনায় আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এ রায় অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা দেবে বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।