বিএনপি ফ্যাসিস্ট সরকারের পথে হাঁটছে এবং এর পরিণতিও সেদিকেই যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য সরকার দেখাতে পারেনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গোলাম পরওয়ারের দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বরং গণভোটের প্রশ্নে সরকার সম্পূর্ণ নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো কোনো সংস্কারই ছয় মাসে বাস্তবায়িত হয়নি।
জ্বালানি সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে।
প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগেও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রসঙ্গে তিনি টিআইবির প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। একই সময়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন।
দ্রব্যমূল্য কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্যসংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা ও উচ্চ সুদের চাপ কাটিয়ে ওঠার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও অভিযোগ করেন। বেসরকারি ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির ঋণপত্র খোলা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে বলে জানান তিনি।