প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৪, ১৮:১৭
রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৭৪৭ পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা গত ১৮ থেকে ২১ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। এই তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ আহ্বান করে ছাত্র আন্দোলন। ১৮ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত, বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীতে, পুলিশের গুলিবর্ষণ ঘটেছে। পুলিশের ৩৫৭ সদস্য প্রায় ৮ হাজার প্রাণঘাতী গুলি ছুঁড়েছেন, যার ফলে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত ও আহত হন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম জানান, অতি বলপ্রয়োগকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের গুলিবর্ষণ কোনো প্রকার নিয়মনীতি মেনে করা হয়নি। ১৮ থেকে ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় ১৫০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১৫টি মামলা করা হয়েছে। আইনজীবীদের একটি সংগঠন, ‘লয়ার ফর এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, এসব মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে গুলিবর্ষণকারী পুলিশ সদস্যদের তালিকা তৈরি করেছে।
তালিকা অনুযায়ী, ৭৪৭ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কনস্টেবল ৪৬৭ জন, সহকারী উপপরিদর্শক ১০৬, উপপরিদর্শক ১৫৭, পরিদর্শক দুজন এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন। ১৮-২১ জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশ প্রাণঘাতী গুলি, রাবার বুলেটসহ অন্তত ২৬ হাজার গুলি ছোড়ে। এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গুলির শিকার হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, গুলি করার জন্য উপর থেকে নির্দেশনা আসতে হবে। আইজিপি বলেন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, এবং তদন্ত সংস্থা আরও তথ্য যাচাই করছে।
অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশ নিরস্ত্র জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং তদন্ত সংস্থা নিশ্চয়ই বিষয়গুলো আমলে নেবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গুলিবর্ষণের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তদন্ত চলছে, এবং এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।