প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৫

অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শেষে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারা অর্থ পাঠিয়েছেন, কী উদ্দেশ্যে লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় বা স্থানান্তর করা হয়েছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সিআইডি আরও জানায়, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে আসামির পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নিজ এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সেই রিমান্ড শেষে নতুন করে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের নামে থাকা একাধিক ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থান থেকে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের উৎস, বৈধতা এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।