প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ২০:৫১

পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে, মস্তুং এলাকার কাছে সংঘটিত এই হামলায় বহু পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
হামলার দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটির দাবি, সুপরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বহরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অতিরিক্ত সেনা সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয় বলে তারা জানায়।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত ও আহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে।
বিএলএর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে একের পর এক হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। এরই অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর ও বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে গোয়েন্দা সংস্থা ও বিমানবাহিনীরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন হামলার জবাব যথাযথভাবে দেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন ও সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গওয়াদর সমুদ্রবন্দরও এ প্রদেশে অবস্থিত, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি গোটা বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক এসব হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।