প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০

যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই এবং তাদের পররাষ্ট্রনীতি এখনো আধিপত্যবাদ ও চাপ প্রয়োগের ওপরই নির্ভরশীল।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনির বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে, যা চুক্তির চেতনার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো কার্যকর মূল্য নেই। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নিজেদের প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করেছে।
মোজতবা খামেনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ প্রতারণা, অবিশ্বস্ততা ও একতরফা আধিপত্যবাদের প্রতিফলন। তার মতে, শক্তি প্রদর্শন ও জবরদস্তিই দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে রয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এর জবাব দেওয়া হবে। তার দাবি, এমন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে দেশের জনগণের উদ্দেশেও বার্তা দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূরে রেখে রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং বিভক্তি এড়িয়ে চলাই বর্তমান সময়ের প্রধান প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর জেরে সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।