হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে ইরান। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত থাকতে পারে—তেলের মূল্য পরিশোধ করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের পথ আংশিকভাবে সহজ করতে তেহরান একটি নতুন পরিকল্পনার ওপর কাজ করছে।
বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন ডলারে হয়ে থাকে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল লেনদেনে ডলারের পরিবর্তে রুবল বা চীনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারের নজির দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে যে উচ্চতায় তেলের দাম উঠেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক মানবিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বলেছেন, এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ইরাকের আকাশে মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত, চার নিহত
তিনি বলেন, এতে শুধু সরবরাহ সংকটই তৈরি হবে না, বরং পরিবহন ব্যয়ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।